Text size A A A
Color C C C C
পাতা

অফিস সম্পর্কিত

খাদ্য বিভাগের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, কার্যক্রম ও বর্তমান সময়ঃ

খাদ্য মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-‘রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হবে জনগণের জীবনের চাহিদাসমূহ যথা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিত্সার নিশ্চয়তা প্রদান করা।’ রুলস অব্ বিজনেস এর আওতায় অ্যালোকেশন অব্ বিজনেস, ১৯৯৬ (সংশোধিত ২০০৯) মূলে খাদ্য মন্ত্রনালয়কে দেশের জনগণের খাদ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরকে বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কর্মসূচির আওতায় কৃষক ও চালকল মালিকদের নিকট হতে ধান, চাল, গম এবং আমদানীর আওতায় বিদেশ হতে গম সংগ্রহ করে থাকে। পাবলিক ফুড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (পিএফডিএস) এর আওতায় ভিজিডি, ভিজিএফ, টিঅার, কাবিখা, জিআর, ইপি, ওপি, ওএমএস, প্রেয়ার প্রাইসসহ বিভিন্ন খাতে খাদ্যশস্য (চাল, গম, আটা) বিলি-বিতরণ করা হয়। খাদ্যশস্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলে সরকার বিভিন্ন চ্যানেলে খাদ্যশস্যের সরবরাহ বৃদ্ধি করে। খোলা বাজারে সুলভমূল্যে (ওএমএস) চাল ও আটা বিক্রি চালু করে খাদ্যশস্যের মূল্য বৃদ্ধি রোধ করে। ফসল কাটার মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের নিকট হতে ধান ও গম এবং চালকল মালিকদের নিকট হতে চাল সংগ্রহ করে। ফলে বাজারে ধান ও গমের মূল্য বৃদ্ধি পায়। এতে কৃষকগণ তাদের উদপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়। ‘দি গ্রেট বেঙ্গল ফ্যামিন’ মোকাবেলার জন্য ১৯৪৩ সালে ‘সিভিল সাপ্লাই ডিপার্টমেন্ট’ চালু করা হয়েছিল। এর আওতায় কলকাতাতে বিধিবদ্ধ রেশনিং চালু হয়েছিল। এ দেশের দুর্ভিক্ষ বিরাজমান এলাকাগুলোতেও রেশনিং চালু করা হয়ছিল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর খাদ্য ও বেসামরিক বিভাগ নামে নতুন দেশে খাদ্য বিভাগ যাত্রা শুরু করে। ১৯৮৪ সালে এনাম কমিশন কর্তৃক বিভাগটি খাদ্য অধিদপ্তর নামে পুনর্গঠিত হয়। ১৯৮৪ সালে সৃষ্ট ৬টি ও ১৯৮৯ সালে সৃষ্ট ১টি মোট ৭টি বিভাগ নিয়ে খাদ্য অধিদপ্তর গঠিত। খাদ্য অধিদপ্তর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ  সরকারের একটি জরুরী বিভাগ।

দেশের পরিবর্তনশীল জলবায়ু, ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনীতিতে খাদ্যমূল্যের বিরাট প্রভাব ইত্যাদি কারণে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্য মজুদ রাখা ও তা সঠিকভাবে জনগণের মাঝে বিলি-বিতরণ করার বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে পরিনত হয়েছে। খাদ্যভিত্তিক বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা ও আপদকালীন জরুরী প্রয়োজন মেটানোর জন্য সর্বদা ০৮-১০ লাখ মেঃটন খাদ্যশস্য সরকারি গুদামে মজুদ রাখার বিষয়ে জাতীয় খাদ্যনীতিতে সিদ্ধান্ত রাখা হয়েছে। সরকারি গুদামের খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতা ১৪.০০ লাখ মেঃটন হতে ১৯.০০ লাখ মেঃটনে উন্নীত করা হয়েছে। ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের মধ্যে সরকারি গুদামের ধারণক্ষমতা ৩০.০০ লাখ মেঃটনে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকার হাতে নিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা করার পাশাপাশি জানুয়ারি/২০১৫ মাসে সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো শ্রীলংকায় ২৫,০০০ মেঃটন চাল রপ্তানি করেছে এবং এপ্রিল/২০১৫ মাসে নেপালের ভূমিকম্প কবলিত অসহায় মানুষের জন্য ত্রাণ সাহায্য হিসেবে ১০,০০০ মেঃটন চাল প্রেরণ করা হয়েছে।

দেশের অতিদরিদ্র জনসাধারণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সরকার ৫০ লাখ অতিদরিদ্র পরিবারকে বছরে ০৫ মাস (সেপ্টেম্বর -ডিসেম্বর ও মার্চ -এপ্রিল) প্রতিকেজি ১০ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে, যা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নামে পরিচিত। “শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ” স্লোগানকে সামনে রেখে এ কর্মসূচি এগিয়ে চলছে। খোলাবাজারে সুলভমূল্যে চাল ও আটা বিক্রয় কার্যক্রম চালু রাখায় খাদ্যশস্যের বাজারদর যথেষ্ট স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ওএমএস কার্যক্রমের আওতায় সুলভমূল্যে সীমিত আয়ের জনগণের মাঝে আটা বিক্রির বিষয়টি একটি জনপ্রিয় কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। দেশের ১৬.০০ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ছবি